পুজোর মরশুমেও বরাত খুললো না তাঁত শিল্পের

West Bengal

 সায়ন্তন টাট : 

 

যুগ যুগ ধরে তাঁত শিল্প বাংলাকে সমৃদ্ধশালী তথা বহির্বিশ্বে বাংলার ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করলেও আধুনিক প্রযুক্তির যুগে তা প্রায় অবলুপ্তির পথে । এমনিতে লকডাউনের ফলে শিল্পীরা কর্মহীন । ফলত , বাংলার প্রায় সাড়ে ছয় লক্ষেরও বেশি রেজিস্টার তাঁত শিল্পীর শোচনীয় অবস্থা । এদের মধ্যে অনেকেই তাঁত বুনেন হাতে টানা তাঁত কলে । কেউ আবার চালান পাওয়ার লুম । কিন্তু দুক্ষেত্রেই বাজার মন্দার দিকে । ঘরে কাপড় তৈরি হয়ে পড়ে আছে । আবার খুচরা ও পাইকারি ব্যবসাও চলছে ধুঁকতে ধুঁকতে । অথচ মহাজনের কাছে ঋণের বোঝা ক্রমশ বেড়েই চলেছে । মূলত পুজোর মরসুমে এই তাঁতশিল্পের এক পুনর্জীবনের সম্ভাবনা থাকলেও চাহিদার অভাব এর দরুন বরাত তেমন মিলছে না । একে তো করোনা মহামারীর জেরে তাঁতের হাট খোলেনি আর তার ওপর অন্যান্য চটকদার শাড়ি যেমন ঢাকাই জামদানি , কাঞ্জিবরন , তসর সিল্ক , পিওর সিল্ক ইত্যাদি শাড়ির লোকপ্রিয়তা বেশি হ‌ওয়ায় তাঁত শিল্প অতলে তলিয়ে যাচ্ছে । অথচ জিআই ট্যাগ এর দৌড়ে বাংলার মাত্র তিনটি শাড়ি অর্থাৎ বালুচরী এবং শান্তিপুর এর পাশাপাশি নাম আছে ধনিয়াখালি তাঁতের‌ও । কিন্তু বলা বাহুল্য বরাত ফেরাবার ক্ষেত্রে এই নামসর্বস্ব জিআই ট্যাগও কোন কাজে লাগছে না ।
সর্বোপরি এ কথা পরিষ্কার যে বাংলার অন্যতম এক প্রাচীন শিল্প ভয়ানক বিপদের সম্মুখীন । এটা শুধু বাঙালির ঐতিহ্য নয় বরং এটা লক্ষ লক্ষ মানুষের রুজি রোজগারের অবলম্বন । তাই সরকারের কাছে আমার বিনীত অনুরোধ , এই তাঁত শিল্পীদের অনুদানের ব্যবস্থা করা হোক এছাড়া তাঁত শিল্পের ওপর ঋণ ও ভর্তুকি ব্যাপারে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হোক ‌। আর আপামর বাঙালির কাছে আবেদন পুজোতে সমস্ত কেনাকাটার পাশাপাশি তাঁতের সামগ্রী ও কিছু কিনুন । ফলে তাঁত শিল্প বাঁচবে তার পাশাপাশি বাঙালির ঐতিহ্য বাঁচবে ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *