করোনা নয় বরং মানসিক অবসাদে ভুগছে বেশিরভাগ পৌঢ়

Others

সায়ন্তন টাট, জাঙ্গিপাড়া: নিঃসঙ্গতা প্রত্যেক মানুষের জীবনের এক অবধারিত পর্যায় যা মূলত বার্ধক্য বয়সেই হাতছানি দেয় । আর এই লকডাউন কালে যখন করোনা সংক্রমণ এবং জীবনের অনিশ্চয়তা দরজায় টোকা মারছে তখন এই নিঃসঙ্গতা বিভীষিকার পরিণত হয়েছে । আর তার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মানসিক অবসাদ , উদ্বেগ এবং আত্মহননের মতো ঘটনা । সম্প্রতি ইন্ডিয়ান জার্নাল অফ সাইকিয়াট্রিতে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় চার গুণ বেড়েছে উদ্বেগ, অবসাদের হার। ১০-১০.৫ শতাংশের আশেপাশে থাকা দেশবাসীর উদ্বেগ এবং অবসাদের হার গিয়ে পৌঁছেছে ৪০.৫ শতাংশে। সুতরাং তুলনামূলকভাবে করোনার থেকে বেশি মানসিক অবসাদে ভুগছে মানুষ । আর এই নিউ নর্মাল লাইফে সবচেয়ে দুর্বিষহ অবস্থায় আছেন পৌঢ় মানুষজন বিশেষত যারা একলা থাকেন । কারণ , লকডাউন পূর্ববর্তীকালে পার্কে মর্নিং ওয়াক বা বাজার করতে যাওয়ার অছিলায় অন্তত কিছু পরিচিত মুখের সাথে ভাব বিনিময় হতো অথবা পাড়া-প্রতিবেশী , আত্মীয়-স্বজন খোঁজ নিয়ে যেত । কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে এনারা সমাজের কাছে ব্রাত্য কারণ নির্জনতা কাটাবার অস্ত্র হিসাবে সোশ্যাল মিডিয়া তাদের কাছে নেই বা থাকলেও কতিপয় পৌঢ় তার ব্যবহার জানেন। আর করোনা পজেটিভ হলে তো কথাই নেই , তখন মানুষের মানবিক এর বদলে পাশবিক দিকটি ফুটে ওঠছে এনাদের প্রতি । দুর্ভাগ্যজনকভাবে এই সমস্যার সমাধান আমার জানা নেই তবে বিশেষজ্ঞদের মত অনুযায়ী জনজীবন স্বাভাবিক হলেই এই উদ্বেগ এবং অবসাদের ঘনঘটা কেটে যাবে । তথাপি বলতে পারি , করোনা কে ভয় না পেয়ে বাস্তবকে স্বীকার করুন কারণ করোনাভাইরাস এখন অন্যান্য ভাইরাসের মতোই আমাদের নিউ নরমাল লাইফের অংশ ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *